প্রকাশিত: মার্চ ৪, ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম
২০২৫ সালের বিপিএলে দুর্বার রাজশাহীর হয়ে খেলেছিলেন এনামুল হক বিজয়। টুর্নামেন্টে দলের অধিনায়কত্বের পাশাপাশি সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও ছিলেন তিনি। তবে আসরের মাঝপথেই নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাকে। পরবর্তীতে কয়েকজন ক্রিকেটার ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠে, যার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দুর্নীতি দমন বিভাগের পরামর্শক অ্যালেক্স মার্শাল-এর সুপারিশে ৯ জন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। সেই তালিকায় ছিলেন বিজয়, মোসাদ্দেক হোসেন, আলাউদ্দিন বাবু ও সানজামুল ইসলাম। অভিযোগের প্রভাবেই তারা সাম্প্রতিক বিপিএলে অংশ নিতে পারেননি।
সম্প্রতি বিসিএল ফাইনালের দিন মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন বিজয়। মাঠে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের খেলা উপভোগ করলেও নিজের না খেলার আক্ষেপ লুকাননি তিনি। স্টেডিয়াম ছাড়ার আগে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন— বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তার সম্মান পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তিনি মাঠে ফিরবেন না।
অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ঘরোয়া অন্যান্য টুর্নামেন্টে খেলতে বাধা না থাকলেও অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপে সুযোগ পাননি বিজয়। এমনকি সর্বশেষ বিসিএলের স্কোয়াডে থাকলেও তাকে একাদশে রাখা হয়নি। এ ধরনের ‘দ্বিমুখী নীতি’র তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
বিজয়ের ভাষ্য, এক টুর্নামেন্টে খেলতে দেবেন, আরেকটিতে দেবেন না— এভাবে তো চলতে পারে না। আমি পেশাদার ক্রিকেটার। ১০-১২ বছর ধরে খেলছি, ৫১টি সেঞ্চুরি করেছি, অধিনায়কত্ব করেছি। আমাকে যা ইচ্ছা তাই বলা যাবে না। বিষয়টি এত দীর্ঘ হওয়ার কথা নয়।
অভিযোগ ওঠার পর ফেসবুক লাইভে বিসিবিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন বিজয়। তার দাবি ছিল— প্রমাণ থাকলে তাকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হোক। কিন্তু দুই বছর পার হলেও এখনো কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
বিজয় বলেন, যদি কেউ অপরাধ করে থাকে, এক-দুই সপ্তাহেই বের হওয়া উচিত। দুই বছরেও কিছু বের করা যায়নি মানে আমি কিছু করিনি। প্রমাণ দেখাতে পারলে আমি নিজেই আর খেলব না।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) আগের মৌসুমে শুরুতে কোনো দল পাননি তিনি। পরে সুযোগ পেলেও তুলনামূলক কম পারিশ্রমিকে খেলতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি চান না বিজয়।
তার স্পষ্ট বক্তব্য, বিসিবি যতক্ষণ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করছে যে আমি অপরাধী নই, আমার বকেয়া পরিশোধ না করছে এবং সন্দেহের তালিকা থেকে নাম না কাটছে— ততক্ষণ আমি খেলব না। আমার কাছে ক্রিকেট মানে সম্মান, টাকা নয়।
বিসিবি সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাননি বলে জানান বিজয়। হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বুলবুল ভাইকে ফোন পাইনি, এসএমএস করেছি— উত্তর নেই। ফারুক ভাই ও মিঠু ভাই বলেছেন ‘দেখছি, হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।’ এখন সব আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি।’
আপনার মতামত লিখুন :