লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক পোশাকে অস্ত্র হাতে সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছেন ইসরায়েলের এক পেশাদার ফুটবলার। তার মেশিনগান থেকে গুলি ছোড়া ও গ্রেনেড নিক্ষেপ করার একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। এতে বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এমন ঘটনার পর ফুটবল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাকে এবং ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (আইএফএ) নিষিদ্ধ করার জন্য ফিফার প্রতি নতুন করে আহ্বান জানিয়েছেন। একটি প্রতিবেদনে এমনটিই তুলে ধরেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, মেনাশে জালকা নামের ওই ফুটবলার দক্ষিণ লেবাননের একটি আবাসিক এলাকায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন থেকে মেশিনগান দিয়ে গুলি চালাচ্ছেন এবং গ্রেনেড নিক্ষেপ করছেন। এসময় তিনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম পরিহিত ছিলেন। ভিডিওটি ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল-১৪-তে সম্প্রচারিত হয় এবং পরে আল-জাজিরা সেটি যাচাই করেছে। এর আগেও গাজা যুদ্ধে দীর্ঘ সময় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হয়ে কাজ করেছেন এই ফুটবলার। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি সেনাবাহিনীর প্যারাট্রুপার ব্রিগেডের একজন রিজার্ভ সদস্য।
সামরিক অভিযানে একজন পেশাদার ফুটবলারের এমন অংশগ্রহণে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ)। পিএফএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট সুসান শালাবি এই ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন। অনেকের মতে, একজন পেশাদার ফুটবলারের এভাবে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়া এবং বেসামরিক এলাকায় আক্রমণ করা ফিফার নিয়মাবলীর চরম লঙ্ঘন।
এমনিতেই ইসরায়েল কাণ্ডে ফিফার ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। গত ১৯ মার্চ ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে বৈষম্যবিরোধী নীতি লঙ্ঘনের দায়ে এক লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করলেও তাদের নিষিদ্ধ করেনি।
ফুটবল বিশ্লেষকরা ফিফা এবং উয়েফার বিরুদ্ধে এমন দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ তুলেছেন। তারা বলছেন, ইউক্রেন আক্রমণের পর রাশিয়াকে দ্রুত নিষিদ্ধ করা হলেও ইসরায়েলের ক্ষেত্রে ফিফা রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছে।
ফুটবল লেখক লায়লা হামেদ তার এক পোস্টে ফিফার নিষ্ক্রিয়তার কঠোর সমালোচনা করে লেখেন, ‘ফিফা ইসরায়েলি খেলোয়াড়দের যুদ্ধাপরাধে জড়িত থাকার বিষয়ে অবগত, তবুও তারা কিছুই করছে না। ছুটির দিনগুলোতে তারা বলে লাথি মারে, আর সপ্তাহের অন্য দিনগুলোতে নৃশংসতা চালায়।’