ফিফা বিশ্বকাপ আসর শুরু হতে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকলেও ভারত ও চীনের কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের জন্য দুঃসংবাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে সম্প্রচার স্বত্বের অনিশ্চয়তা। বিশ্বের জনবহুল এই দুই দেশেই এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের মিডিয়া রাইটস বা সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
আগামী মাসে পর্দা উঠতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপের। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুই দেশ, ভারত ও চীনে এখনও এই মেগা ইভেন্টের সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি সই হয়নি। ফলে কয়েক কোটি ফুটবল অনুরাগী টিভিতে বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে খেলা দেখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফা জানিয়েছে, তারা বিশ্বের অন্তত ১৭৫টি অঞ্চলের সম্প্রচারকদের সাথে ইতিমধ্যে চুক্তি সই করেছে। তবে, ভারত ও চীনের ক্ষেত্রে আলোচনা এখনও ‘চলমান’ অবস্থায় রয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক বিবৃতিতে ফিফা জানিয়েছে, ভারত ও চীনের মিডিয়া রাইটস বিক্রয় সংক্রান্ত আলোচনা বর্তমানে চলমান এবং এই পর্যায়ে বিষয়টির গোপনীয়তা রক্ষা করা জরুরি।
সাধারণত বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের সম্প্রচার স্বত্ব অনেক আগেভাগেই চূড়ান্ত হয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপের সময় চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি টুর্নামেন্ট শুরুর অনেক আগেই স্বত্ব নিশ্চিত করেছিল এবং কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই প্রচার কার্যক্রম ও বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু করেছিল। কিন্তু এবার টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র পাঁচ সপ্তাহ বাকি থাকলেও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
ফিফার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ বিশ্বকাপে ডিজিটাল এবং সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে বিশ্বজুড়ে ভিউয়িং আওয়ারের প্রায় ৪৯.৮ শতাংশই এসেছিল চীন থেকে। ভারতের বাজারও ফুটবলের জন্য অত্যন্ত লাভজনক ও জনপ্রিয়। এত বিশাল দর্শকসংখ্যার দেশগুলোতে সম্প্রচার নিশ্চিত না হওয়া ফিফার জন্যও বড় একটি চ্যালেঞ্জ।
আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের জন্য হাতে সময় খুবই কম। একটি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর সম্প্রচার অবকাঠামো তৈরি করা এবং বিজ্ঞাপনের স্লট বিক্রি করার জন্য যে পরিমাণ সময় প্রয়োজন, তা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ফলে ফুটবলপ্রেমীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন কোনো ইতিবাচক ঘোষণার জন্য।
যদি দ্রুত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো না যায়, তবে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এটি এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে, যেখানে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ সরাসরি বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।