ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন হলো ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা; যাকে ফুটবল প্রেমীরা ভালোবেসে ডাকেন ‘সুপার ক্লাসিকো’। এবারের ফিফা বিশ্বকাপ সামনে রেখে এখন ভক্তদের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, উত্তর আমেরিকার এই আসরে কি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই পরাশক্তি একে অপরের মুখোমুখি হতে পারবে? ফিফার নতুন ফরম্যাট এবং খেলার সম্ভাব্য সূচি বিশ্লেষণ করলে সেই রোমাঞ্চকর সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে।
এবারের বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ইতিহাসের বৃহত্তম আসর, যেখানে ৩২টির পরিবর্তে ৪৮টি দল অংশ নেবে। নকআউট পর্যায় শুরু হবে ‘রাউন্ড অব ৩২’ থেকে। ফলে, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা যেমন বেড়েছে, তেমনি সমীকরণও হয়েছে কিছুটা জটিল। ফিফার ড্র এবং গ্রুপ বিন্যাসের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে তারা নকআউট পর্বের কোন অর্ধে অবস্থান করবে।

মুখোমুখি হওয়ার গাণিতিক সম্ভাবনা: সাধারণত ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকায় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা আলাদা আলাদা গ্রুপে শীর্ষ বাছাই হিসেবে থাকবে। ফলে গ্রুপ পর্বে তাদের দেখা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাদের লড়াই হতে পারে কেবল নকআউট পর্বে।
যদি তারা টুর্নামেন্টের বিপরীত অর্ধে থাকে, তবে তাদের দেখা হতে পারে সরাসরি মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ফাইনালে। আর, যদি একই অর্ধে থাকে, তবে সেমিফাইনালে দেখা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আবার, যদি কোনো একটি দল গ্রুপ পর্বে অঘটন ঘটিয়ে রানার্স-আপ হিসেবে পরের রাউন্ডে যায়, তবে সমীকরণ বদলে যেতে পারে এবং কোয়ার্টার ফাইনাল বা শেষ ষোলতেই দেখা যেতে পারে এই ‘ল্যাটিন যুদ্ধ’।

পরিসংখ্যান ও বর্তমান পরিস্থিতি: বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত এই দুই দল মাত্র চারবার মুখোমুখি হয়েছে। যার মধ্যে ব্রাজিল জিতেছে দুইটিতে, আর্জেন্টিনা একটিতে এবং অন্যটি ড্র হয়েছে। তবে, সাম্প্রতিক সময়ে লাতিন আমেরিকায় আর্জেন্টিনার দাপট (কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপ জয়) এবং ব্রাজিলের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া এই সম্ভাব্য ম্যাচটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বিশেষ করে লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ এবং ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস-রদ্রিগোদের নতুন প্রজন্মের লড়াই দেখার জন্য মুখিয়ে আছে বিশ্ব।
বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী, ম্যাচগুলো হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর বিশাল স্টেডিয়ামগুলোতে। যদি সূচি অনুযায়ী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সেমিতে বা ফাইনালে পৌঁছাতে পারে, তবে তা হবে এবারের বিশ্বকাপের বাণিজ্যিকভাবে সফলতম এবং জনপ্রিয়তম ম্যাচ। আয়োজক দেশগুলোর জন্য এটি হবে সোনায় সোহাগা।

যদিও চূড়ান্ত ড্র না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না ঠিক কোন তারিখে বা কোন স্টেডিয়ামে তারা মুখোমুখি হবে, তবে ফিফার নকআউট ড্রয়ের বিন্যাস এমনভাবে করা হয় যাতে বড় দলগুলোর লড়াই শেষ দিকে ঘটে। ফুটবল ভক্তদের প্রার্থনা একটাই, জুলাই মাসে যেন নিউইয়র্ক বা ডালাসের কোনো এক স্টেডিয়ামে হলুদ আর আকাশী-সাদা জার্সির সেই চিরাচরিত লড়াই বিশ্ববাসী আবারও দেখার সুযোগ পায়।
ফুটবল বিধাতা কি সেই সুযোগ করে দেবেন, উত্তর মিলবে যথা সময়েই। তার আগে শুধুই অপেক্ষার প্রহর।