কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ইনসেটে ডা. মিজানুর রহমান।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমএসআর (মেডিসিনস, সার্জিক্যাল অ্যান্ড রিএজেন্টস) খাতে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী ক্রয় কার্যক্রমে গুরুতর অনিয়ম, অস্বচ্ছতা ও সরকারি ক্রয়বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মিজানুর রহমান।
স্থানীয় ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত দুই অর্থবছর—২০২৪–২৫ ও ২০২৫–২৬—জুড়ে পরিচালিত একাধিক টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়নি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, টেন্ডার প্রস্তুত, ই-জিপি কার্যক্রম পরিচালনা, বিড দাখিল, মূল্যায়ন-সংক্রান্ত সমন্বয় এবং অন্যান্য গোপনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রমে একজন বহিরাগত ঠিকাদারের প্রত্যক্ষ প্রভাব ছিল। সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী এসব কার্যক্রম সরকারি কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও বহিরাগত ব্যক্তির সম্পৃক্ততা ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলোচিত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধিকাংশ টেন্ডারে কার্যাদেশ পেয়েছে ঢাকাভিত্তিক ‘দ্য গ্রেইট ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তবে প্রতিষ্ঠানটির দাখিল করা অভিজ্ঞতা সনদ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও যোগ্যতার প্রমাণপত্রের সত্যতা নিয়ে স্থানীয় ঠিকাদারদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্সে উল্লেখিত ঠিকানা—৩০৩, ময়নাবাগ, হোসেন মার্কেট, স্বাধীনতা সরণি, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২—এ গিয়ে কোনো কার্যকর অফিসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটিকে কীভাবে কোটি টাকার সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় যোগ্য ঘোষণা করা হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আরও জানা যায়, কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসাসামগ্রী ও ওষুধ যথাযথভাবে সরবরাহ বা গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে। সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়দের। তাদের দাবি, নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা, কারিগরি ও আর্থিক সক্ষমতা, টেন্ডারের যোগ্যতা অর্জনের শর্ত পূরণের বিষয় এবং মূল্যায়ন কমিটি কোন ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটিকে রেসপন্সিভ বা যোগ্য ঘোষণা করেছে—সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র জনসমক্ষে প্রকাশ করা হোক।
ই-জিপির লগ ফাইল, মূল্যায়ন প্রতিবেদন, নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের দাখিল করা নথিপত্র এবং ক্রয়সংশ্লিষ্ট সব রেকর্ড পর্যালোচনা করে একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি উঠেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমানের অফিসিয়াল ও ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে ‘দ্য গ্রেইট ইন্টারন্যাশনাল’-এর সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।