ঢাকা বুধবার, ০৫ আগস্ট, ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩
amaderkhobor24.com

কুষ্টিয়ায় ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমএসআর টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম

কুষ্টিয়ায় ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমএসআর টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ইনসেটে ডা. মিজানুর রহমান।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমএসআর (মেডিসিনস, সার্জিক্যাল অ্যান্ড রিএজেন্টস) খাতে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী ক্রয় কার্যক্রমে গুরুতর অনিয়ম, অস্বচ্ছতা ও সরকারি ক্রয়বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মিজানুর রহমান।

স্থানীয় ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত দুই অর্থবছর—২০২৪–২৫ ও ২০২৫–২৬—জুড়ে পরিচালিত একাধিক টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়নি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, টেন্ডার প্রস্তুত, ই-জিপি কার্যক্রম পরিচালনা, বিড দাখিল, মূল্যায়ন-সংক্রান্ত সমন্বয় এবং অন্যান্য গোপনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রমে একজন বহিরাগত ঠিকাদারের প্রত্যক্ষ প্রভাব ছিল। সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী এসব কার্যক্রম সরকারি কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও বহিরাগত ব্যক্তির সম্পৃক্ততা ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলোচিত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধিকাংশ টেন্ডারে কার্যাদেশ পেয়েছে ঢাকাভিত্তিক ‘দ্য গ্রেইট ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তবে প্রতিষ্ঠানটির দাখিল করা অভিজ্ঞতা সনদ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও যোগ্যতার প্রমাণপত্রের সত্যতা নিয়ে স্থানীয় ঠিকাদারদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্সে উল্লেখিত ঠিকানা—৩০৩, ময়নাবাগ, হোসেন মার্কেট, স্বাধীনতা সরণি, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২—এ গিয়ে কোনো কার্যকর অফিসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটিকে কীভাবে কোটি টাকার সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় যোগ্য ঘোষণা করা হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

আরও জানা যায়, কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসাসামগ্রী ও ওষুধ যথাযথভাবে সরবরাহ বা গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে। সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়দের। তাদের দাবি, নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা, কারিগরি ও আর্থিক সক্ষমতা, টেন্ডারের যোগ্যতা অর্জনের শর্ত পূরণের বিষয় এবং মূল্যায়ন কমিটি কোন ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটিকে রেসপন্সিভ বা যোগ্য ঘোষণা করেছে—সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র জনসমক্ষে প্রকাশ করা হোক।

ই-জিপির লগ ফাইল, মূল্যায়ন প্রতিবেদন, নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের দাখিল করা নথিপত্র এবং ক্রয়সংশ্লিষ্ট সব রেকর্ড পর্যালোচনা করে একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি উঠেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তবে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমানের অফিসিয়াল ও ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে ‘দ্য গ্রেইট ইন্টারন্যাশনাল’-এর সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

Link copied!