ছোট পর্দার বর্তমান সময়ের অন্যতম ব্যস্ত ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। যখন ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে থেকে নিয়মিত শ্যুটিং সেটে ব্যস্ত থাকার কথা, ঠিক তখনই এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হলেন এই অভিনেত্রী। ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে এসেছেন তিনি। সম্প্রতি ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে তার মস্তিষ্কে দ্বিতীয় দফায় সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তানিয়া। সেখানে অস্ত্রোপচার শেষে ২০ ফেব্রুয়ারি বাসায় ফেরেন তিনি। তবে শারীরিক জটিলতা কাটেনি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়ে যাওয়া হয় চেন্নাইয়ে।
রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন পোস্টে অভিনেত্রী লেখেন, ‘অপারেশন + লাইফ সাপোর্ট + আইসিইউ = ১১ দিন।’ তার এই ছোট্ট সমীকরণই বলে দিচ্ছে, গত কয়েকটা দিন কতটা ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে পার করেছেন তিনি।
তানিয়া বৃষ্টির অসুস্থতার খবরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভক্ত ও সহকর্মীদের মাঝে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে চেন্নাইয়ে অবস্থান করছেন নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী। সেখানে তানিয়ার সঙ্গে দেখা করে তার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ আপডেট জানিয়েছেন তিনি।
ফেসবুকে চয়নিকা চৌধুরী লেখেন, ‘কখন যে কার জীবনে কী ঘটে যায়, কেউ বলতে পারে না। চেন্নাইতে আছি অথচ আমার একজন পছন্দের মানুষ, অভিনয়শিল্পী তানিয়া বৃষ্টির সঙ্গে দেখা হবে না? এটা কেমন কথা? আমিও দৌড়ের ওপর আছি।’
তানিয়ার সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের স্মৃতি চারণ করে এই নির্মাতা আরও লেখেন, ‘তানিয়া বৃষ্টির সঙ্গে দেখা হলো। আধা ঘণ্টা ছিলাম। কথা হলো, ওকে দেখলাম, এত মায়া লাগছিল। চোখেমুখে, হাসিতে মায়া। অনেক নরম হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সুন্দর লাগছিল। তানিয়ার সঙ্গে আছে ওর বোন। বিদেশের বাড়িতে দুজন! তানিয়ার জন্য প্রার্থনা আর শুভ কামনা। তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাও। অনেক প্রার্থনা মন থেকে তোমার জন্য। নিজের যত্ন নিও প্লিজ।’
চিকিৎসার বিস্তারিত জানিয়ে চয়নিকা চৌধুরী বলেন, ‘৯ মার্চ চেন্নাই আসার পর তানিয়ার সার্জারি হয়। তারপর লাইফ সাপোর্ট আর আইসিইউতে ছিল। শনিবার কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। রোববার বিকেলে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়েছে তাকে। আগামী মাসের ১০ তারিখ আবার যেতে হবে চেন্নাইয়ের হাসপাতালে।’
বর্তমানে তানিয়া বৃষ্টির অবস্থা স্থিতিশীল। তবে চিকিৎসকদের কড়া পরামর্শে থাকতে হচ্ছে তাকে। এ প্রসঙ্গে চয়নিকা বলেন, ‘এখন ভালো আছে। মাথার ব্যাপার অনেক নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। কোনো স্ট্রেস নেওয়া বারণ।’
আপনার মতামত লিখুন :