প্রকাশিত: মার্চ ২৪, ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম
উত্তর কোরিয়ার `রাবার-স্ট্যাম্প` পার্লামেন্ট হিসেবে পরিচিত সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলিতে পুনরায় দেশটির শীর্ষ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন কিম জং উন। একটি সুপরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল ভোটের মাধ্যমে তাকে টানা তৃতীয় মেয়াদে দেশটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থার প্রধান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, কিমের এই নির্বাচন `সকল কোরীয় জনগণের সর্বসম্মত ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন`। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্তর কোরিয়ায় এই ধরনের নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্য হলো কিম বংশের একচ্ছত্র শাসনকে একটি গণতান্ত্রিক বৈধতার রূপ দেওয়া। সাধারণত ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির তৈরি করা রাষ্ট্রীয় নীতিগুলো এই পার্লামেন্টে কেবল আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায়।
পুনর্নির্বাচনের পর রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ৪০ বছর বয়সী কিম জং উনের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। তাকে একজন "বিশিষ্ট চিন্তাবিদ-তত্ত্ববিদ" এবং "রাষ্ট্র গঠনের মহান কৌশলবিদ" হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, যিনি উত্তর কোরিয়াকে একটি "শক্তিশালী রাজনৈতিক হাতিয়ার" হিসেবে আরও শক্তিশালী করে তুলবেন।
মানসুদা অ্যাসেম্বলি হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের ছবিতে কিম জং উনকে আনুষ্ঠানিক পশ্চিমা স্যুট ও টাই পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে। এসময় তার বাবা ও দাদার বিশাল মূর্তির সামনে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের করতালিতে মুখরিত ছিল সভাস্থল। ১৯৪৮ সালে কিমের দাদা কিম ইল সাং এই দেশ প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১১ সালে বাবা কিম জং ইলের মৃত্যুর পর কিম জং উন ক্ষমতার উত্তরাধিকারী হন। সম্প্রতি তিনি ওয়ার্কার্স পার্টির প্রধান হিসেবেও পুনর্নির্বাচিত হয়ে তার দীর্ঘ ১৫ বছরের ক্ষমতাকে আরও সুসংহত করেছেন।
এবারের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলির ৬৮৭টি আসনের সবকটিতেই জয়ী হয়েছে। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, ২০১৯ সালের নির্বাচনে যেখানে ভোটের হার ছিল ৯৯.৯৯ শতাংশ, এবার তা সামান্য কমে ৯৯.৯৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ০.০৭ শতাংশ নেতিবাচক ভোট দেখানোর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এটি বোঝাতে চাইছে যে, দেশটিতে সীমিত আকারে হলেও ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ রয়েছে—যা আসলে একটি কৃত্রিম ধারণা তৈরির চেষ্টা।
কেসিএনএ জানিয়েছে, সপ্তাহান্তের এই অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনী, ক্ষমতাসীন দলের কংগ্রেসে ঘোষিত পাঁচ বছর মেয়াদী জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ এবং ২০২৬ সালের রাষ্ট্রীয় বাজেট নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
যদিও বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে, সংবিধানে বড় ধরনের পরিবর্তনের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি কিম জং উনের সাম্প্রতিক `দুই শত্রু রাষ্ট্র` নীতিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, কিম সম্প্রতি পিয়ংইয়ংয়ের দীর্ঘদিনের শান্তিপূর্ণ একত্রীকরণের লক্ষ্য ত্যাগ করে দক্ষিণ কোরিয়াকে দেশটির প্রধান শত্রু হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
অধিবেশনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল কিমের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং-এর অনুপস্থিতি। তিনি ২০২১ সাল থেকে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব সংস্থা `স্টেট অ্যাফেয়ার্স কমিশন`-এর সদস্য ছিলেন, তবে এবারের তালিকায় তার নাম দেখা যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :