মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা ও হুমকির মুখে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরান সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলা চালায়, তবে তারা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাবে।
ইরানের এই হুমকির পর পানীয় জলের জন্য সমুদ্রের পানি পরিশোধনের (ডেসালিনেশন) ওপর নির্ভরশীল এই অঞ্চলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সশস্ত্র সংঘাতের জেরে গত শনিবার রাতে ট্রাম্প এক আল্টিমেটাম দেন। তিনি জানান, তেহরান যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাবে। এই সময়সীমা সোমবার সন্ধ্যায় শেষ হওয়ার কথা।
এদিকে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী সোমবার ভোরে জানিয়েছে, তারা তেহরানের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা শুরু করেছে। ইরানের সংবাদ সংস্থাগুলোর মতে, খোররামাবাদ ও উরমিয়ার আবাসিক এলাকায় বিমান হামলায় এক শিশু নিহতসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম যুলফাকারি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, শত্রুপক্ষ যদি আমাদের জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও এই অঞ্চলের সহযোগী দেশগুলোর সমস্ত জ্বালানি স্থাপনা, তথ্য প্রযুক্তি এবং পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ‘অপূরণীয়ভাবে ধ্বংস’ হয়ে যেতে পারে। ইরানের শক্তিশালী বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনর্নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহের রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখা হবে।
এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এই হুমকি অত্যন্ত উদ্বেগের। কারণ বাহরাইন ও কাতার তাদের ব্যবহৃত পানির শতভাগ আসে বিদ্যুৎচালিত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র থেকে। সংযুক্ত আরব আমিরাত পানীয় জলের চাহিদার ৮০ শতাংশের বেশি মেটায় এই কেন্দ্রগুলো। আর সৌদি আরব তাদের পানি সরবরাহের ৫০ শতাংশ আসে সমুদ্রের পানি শোধন করে।
তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হলে এই মরুশহরগুলো কার্যত বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত দুই হাজার জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। রোববার রাতেও তেল আবিবসহ ইসরাইলের বিভিন্ন অংশে সাইরেন বেজে ওঠে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি তারা প্রতিহত করেছে।
এই সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পশ্চিমা জোটের স্থিতিশীলতা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :