প্রকাশিত: মার্চ ২৩, ২০২৬, ০১:৫১ পিএম
ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান যুদ্ধের তীব্রতা চতুর্থ সপ্তাহে পা দেওয়ার পর পারস্পরিক হামলার হুমকি আরও জোরালো হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে সোমবার (২৩ মার্চ) লেনদেন শুরু হতেই এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে ব্যাপক দরপতন দেখা গেছে।
জাপানের প্রধান সূচক নিক্কেই ২২৫-এর মান ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচকে প্রায় ৫ শতাংশ ধস নেমেছে। মূলত হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় এই দুই দেশ জ্বালানি আমদানিতে সবচেয়ে বেশি সংকটের মুখে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই জলপথ খুলে দেওয়ার আল্টিমেটাম দিয়ে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর থেকেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল সোমবার অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় এক বক্তৃতায় সতর্ক করেছেন যে, এই যুদ্ধ বিশ্বকে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট এবং ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবের সঙ্গে তুলনা করে একে ‘দুটি তেল সংকট ও একটি গ্যাস বিপর্যয়ের সম্মিলিত রূপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের জেরে বিশ্বের অন্তত ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) চলাচলের পথ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম লাফিয়ে বাড়ছে।
সংঘাতের সূত্রপাত হয় যখন ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইরান হুমকি ছাড়াই হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত না করলে তাদের বৃহত্তম বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করা হবে। ইসরায়েলের দিমোনা শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর ট্রাম্প এই কঠোর অবস্থান নেন।
এর জবাবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মুহাম্মদ বাগের গালিবফ পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি শোধন অবকাঠামো এমনভাবে ধ্বংস করা হবে যা আর কোনোদিন আগের অবস্থায় ফেরানো সম্ভব হবে না। এই আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের হুমকি সংঘাতের মাত্রাকে এক অনিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
এশীয় অঞ্চলের অন্যান্য বাজারেও সোমবার নিম্নমুখী প্রবণতা ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট। হংকংয়ের শেয়ারবাজারে ২ দশমিক ৫ শতাংশ, তাইওয়ানে ২ শতাংশ এবং সাংহাই কম্পোজিট সূচকে ২.৩ শতাংশ দরপতন রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডের বাজারগুলোতেও ২ শতাংশের বেশি পতন লক্ষ্য করা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি সামরিক উত্তেজনা প্রশমিত না হয় তবে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি শেয়ারবাজারের এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। বর্তমানে খোদ আমেরিকা ও ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত আসার খবরে বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি এবং আল জাজিরা
আপনার মতামত লিখুন :