প্রকাশিত: মার্চ ২৫, ২০২৬, ১০:০২ এএম
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে এবং দেশটিতে সরাসরি মার্কিন সেনা পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন সৌদি আরবের প্রভাবশালী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহে ট্রাম্পের সঙ্গে বেশ কয়েকবার কথা বলেছেন মোহাম্মদ বিন সালমান। এসব আলোচনায় তিনি ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টকে উৎসাহিত করেছেন। সৌদি যুবরাজ মনে করেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা টিকে থাকা পর্যন্ত এই অঞ্চল দীর্ঘমেয়াদি হুমকির মুখে থাকবে। এমনকি যুদ্ধ শেষ হলেও ইরান সৌদি আরবকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং নৌপথে হুমকি দেওয়া অব্যাহত রাখতে পারে বলে তার আশঙ্কা।
প্রকাশ্যে রিয়াদ কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও পর্দার আড়ালে মোহাম্মদ বিন সালমানের অবস্থান বেশ কঠোর। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়া সৌদি আরবের এই নেতা চান মার্কিন বাহিনী ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিক।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের সূত্রমতে, ইরানের জ্বালানি কেন্দ্রগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে এবং বর্তমান সরকারের পতন ঘটাতে তিনি দেশটিতে সরাসরি মার্কিন স্থল অভিযানের পক্ষে মত দিয়েছেন।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে উদ্বেগ রয়েছে, সে বিষয়ে ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করে যুবরাজ বলেছেন, তেলের দামের এই উল্লম্ফন কেবল সাময়িক।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এখন ওই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ব্যাপকভাবে অনুভূত হচ্ছে। দ্য টাইমস অব ইসরায়েল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উপসাগরীয় অঞ্চলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কিছু দেশ এখন ইরানবিরোধী হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
মূলত ইরানের সামরিক শক্তিকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে তারা ভবিষ্যতে আর বড় কোনও হুমকি হয়ে দাঁড়াতে না পারে বলে টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :