ঢাকা মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২
amaderkhobor24.com

ট্রাম্পের হুমকির পর দুবাই উপকূলে বড় তেল ট্যাঙ্কারে ইরানের হামলা

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: মার্চ ৩১, ২০২৬, ০২:২১ পিএম

ট্রাম্পের হুমকির পর দুবাই উপকূলে বড় তেল ট্যাঙ্কারে ইরানের হামলা

ইরান গতকাল সোমবার দুবাই উপকূলে তেলভর্তি বড় একটি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি না খোলে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের এনার্জি প্ল্যান্ট ও তেলকূপ ধ্বংস করে দেবে।

প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহনে সক্ষম কুয়েতের পতাকাবাহী আল-সালমি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে ইরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের পর থেকে ক্ষেপণাস্ত্র বা সমুদ্র ড্রোনের মাধ্যমে বাণিজ্যিক জাহাজে একের পর এক হামলার অংশ এটি।

মাসব্যাপী চলা এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়েছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকে সংকটে ফেলার হুমকি সৃষ্টি হয়েছে।

কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তেলভর্তি একটি ট্যাঙ্কারে হামলার খবর প্রকাশের পর অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই ট্যাঙ্কারে থাকা প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেলের বর্তমান মূল্য ২০ কোটি ডলারের বেশি। ট্যাঙ্কারের মালিক কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ক্ষতির মূল্যায়ন শুরু করেছে।

দুবাই কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ড্রোন হামলার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের ঘরোয়া অর্থনীতিতেও দেখা দিচ্ছে। প্রাইস–ট্র্যাকিং সার্ভিস গ্যাসবাডির তথ্য অনুযায়ী, গতকাল যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের খুচরা মূল্য প্রতি গ্যালন চার ডলার অতিক্রম করেছে, যা তিন বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। বৈশ্বিক সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশটিতে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০১ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

সৈন্য মোতায়েন ও আলোচনা চলছেই
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ নেই, বরং সংঘাতের আশঙ্কা আরও বেড়েছে। ইরান–সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সম্প্রতি ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যুদ্ধে যোগ দিয়েছে। তুরস্ক জানিয়েছে, ইরান থেকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল, যা ন্যাটোর বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে।

ইসরায়েল তেহরান ও বৈরুতে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সামরিক স্থাপনার ওপর হামলা চালিয়েছে। ওই হামলায় লেবাননের দক্ষিণে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। তাঁরা ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনী থেকে সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের দুজন কর্মকর্তা বলেছেন, দেশটির যুক্তরাষ্ট্রের ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের সৈন্যরা ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে শুরু করেছেন।

আর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেছেন, ট্রাম্প ৬ এপ্রিলের আগে তেহরানের সঙ্গে চুক্তি করতে চাচ্ছেন। তবে হরমুজ প্রণালি না খোলার ক্ষেত্রে নতুন হুঁশিয়ারিও জারি করেছেন।

লেভিট বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা এগোচ্ছে। তারা প্রকাশ্যে যা বলছে, তা ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের যা বলছে তার থেকে আলাদা।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল পরে প্রতিবেদনে বলেছে, ট্রাম্প তাঁর সহকর্মীদের বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলেও তিনি সামরিক অভিযান বন্ধ করতে প্রস্তুত।

ইরান জানিয়েছে, পাকিস্তান, মিসর, সৌদি আরব ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে রোববার আলোচনার পরে তারা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাব পেয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এই প্রস্তাব ‘অবাস্তব, অযৌক্তিক এবং অতিরিক্ত’। তিনি বলেন, তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট। তাঁরা বর্তমানে সামরিক আগ্রাসনের মুখোমুখি।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘বড় অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু যদি হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে ‘ব্যবসার জন্য খোলা’ না হয়, আমরা ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলকূপ ও খারগ দ্বীপ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেব।’

হোয়াইট হাউস বলেছে, ট্রাম্প আরব দেশগুলোকে যুদ্ধের খরচ বহনের জন্য অনুরোধ করতে পারেন। প্রশাসন ইতিমধ্যেই যুদ্ধের জন্য অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলার অনুদানের আবেদন করেছে।

Link copied!