ঢাকা বুধবার, ০১ এপ্রিল, ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২
amaderkhobor24.com

৫৩ বছর পর আজ আবার চাঁদের পথে মানুষ

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: এপ্রিল ১, ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম

৫৩ বছর পর আজ আবার চাঁদের পথে মানুষ

প্রায় ৫৩ বছর পর আবারও চন্দ্রাভিযানে যাচ্ছে মানুষ। অ্যাপোলো-১৭ অভিযানের পর এবার নাসা মহাকাশে মানুষ পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিলো। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত কেনেডি স্পেস সেন্টারে এখন চলছে ঐতিহাসিক এক মুহূর্তের কাউন্টডাউন। সবকিছু ঠিক থাকলে আর্টেমিস ২ মিশন মহাকাশ অভিযানই হবে সেই যাত্রা, যা মানুষের চাঁদে ফিরে যাওয়ার নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

কারিগরি জটিলতার কারণে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে উৎক্ষেপণ পিছিয়ে গেলেও আজ (১ এপ্রিল) সেই যাত্রা সফল করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।রয়টার্স জানায়, অ্যাপোলো ১৭-এর পর নাসার মানববাহী চন্দ্রাভিযান বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় চাঁদ থেকে আনা পাথর বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছিলেন, সেখানে পানি নেই, ফলে দীর্ঘমেয়াদি বসবাস কঠিন। ১৯৭২ সালের পর আর কোনো মানুষ চাঁদে যাননি।

তবে এবার তিন ধাপে পরিচালিত হচ্ছে নতুন এই কর্মসূচি, যার নাম আর্টেমিস প্রোগ্রাম। দ্বিতীয় ধাপ আর্টেমিস ২-তে মহাকাশচারীরা পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়িয়ে চাঁদের কাছাকাছি গিয়ে একটি উচ্চগতির লুপ সম্পন্ন করে ফিরে আসবেন। তৃতীয় ধাপ আর্টেমিস ৩ তে চাঁদের মাটিতে অবতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ হবে।

আমেরিকার ইস্টার্ন ডেলাইট টাইম অনুযায়ী বিকাল ৬টা ২৪ মিনিটে উৎক্ষেপণ হবে ওরিয়ন স্পেসক্রাফ্ট। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী এটি দেখা যাবে ২ এপ্রিল ভোরে। লাইভ সম্প্রচার দেখা যাবে নাসার অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল ও ওয়েবসাইটে।

এই অভিযানে অংশ নিচ্ছেন চার মহাকাশচারী, রেইড ওয়াসম্যান (কমান্ডার), ভিক্টর গ্লোভার (পাইলট), ক্রিস্টিনা কোচ (অভিযান বিশেষজ্ঞ) এবং জেরেমি হ্যানসেন (কানাডিয়ান মহাকাশ সংস্থার প্রতিনিধি)।

নাসার এই নতুন চন্দ্রাভিযান ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণার ভিত্তি গড়ে তোলার একটি বড় উদ্যোগ। আর্টেমিস প্রোগ্রাম -এর মূল লক্ষ্য হলো চাঁদে একটি স্থায়ী মানব উপস্থিতি তৈরি করা, যা ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কাজ করবে।এই অভিযানে ব্যবহৃত ওরিয়ন স্পেসক্রাফ্ট মহাকাশযানটি গভীর মহাকাশে দীর্ঘ সময় নিরাপদে ভ্রমণের জন্য তৈরি। এতে উন্নত জীবনরক্ষা ব্যবস্থা, বিকিরণ সুরক্ষা এবং স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মিশন সফল হলে মহাকাশ প্রতিযোগিতায় নতুন গতি আসবে। ইতোমধ্যে চীন ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশও চাঁদে নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করার পরিকল্পনা করছে।

Link copied!