ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২
amaderkhobor24.com

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: এপ্রিল ২, ২০২৬, ০১:১২ পিএম

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে ৭.৪ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। আজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৪৮ মিনিটে পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। তবে পরবর্তী সময় সেই সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়েছে। ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভোরে সুলাওয়েসি ও মালুকু দ্বীপপুঞ্জের মধ্যবর্তী মলুকা সাগরে ৩৫ কিলোমিটার অগভীর স্থানে এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

এদিকে উত্তর সুলাওয়েসি প্রদেশের মানাদো শহরে একটি ভবন ধসে একজন নিহত হয়েছেন বলে এএফপিকে জানিয়েছেন স্থানীয় এক অনুসন্ধান ও উদ্ধার কর্মকর্তা। জর্জ লিও মার্সি রান্দাং টেলিফোনে এএফপিকে বলেন, ‘ভূমিকম্পটি তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে এবং মানাদো ও তার আশেপাশে... একজন মারা গেছেন‍‍`।তিনি বলেন, ‘নিহত ব্যক্তি ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়েছিলেন।’ 

হাওয়াইভিত্তিক প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার (পিটিডব্লিউসি) প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে এক হাজার কিলোমিটার (৬২১ মাইল) ব্যাসার্ধের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন এবং মালয়েশিয়ার উপকূল বরাবর বিপজ্জনক সুনামি ঢেউয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থা বিএমকেজির তথ্যমতে, ভূমিকম্পের আধা ঘণ্টার মধ্যে সুলাওয়েসি দ্বীপের উত্তরে অবস্থিত উত্তর মিনাহাসা-তে ৭৫ সেন্টিমিটার এবং বিটুং-এ ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে। উত্তর মালুকু প্রদেশেও ৩০ সেন্টিমিটার উঁচু ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের দুই ঘণ্টার কিছু বেশি সময় পর পিটিডব্লিউসি তাদের সতর্কতা তুলে নেয় এবং জানায়, ‘সুনামির হুমকি এখন কেটে গেছে।’তেরনাতের বাসিন্দা ৪২ বছর বয়সী বুদি নুরগিয়ান্তো বলেন, ভূমিকম্পের সময় তিনি তার বাড়ির ভেতরে ছিলেন এবং এরপর আতঙ্কিত লোকজন বাইরে বেরিয়ে আসে।

তিনি আরো বলেন, ‘ভূমিকম্পটি বেশ তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছিল। আমি প্রথমে বাড়ির দেয়াল কাঁপতে থাকার শব্দ শুনি। যখন আমি বাইরে গেলাম, তখন দেখলাম বাইরে অনেক লোক।

ভূমিকম্পটি এক মিনিটেরও বেশি সময় ধরে অনুভূত হয়েছিল।বড় ভূমিকম্পের পর আরো ১১টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটির মাত্রা ছিল ৫.৫। ভূমিকম্পের সময় মানুষ আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। একটি স্কুলের শিক্ষার্থীরাও দ্রুত বাইরে ছুটে আসে। কম্পন বেশ কিছুক্ষণ স্থায়ী হলেও বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

প্রথমে আশঙ্কা করা হয়েছিল, ইন্দোনেশিয়ার কিছু এলাকায় এক মিটার পর্যন্ত সুনামির ঢেউ উঠতে পারে। পাশাপাশি ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, জাপানসহ কয়েকটি দেশে ছোট ঢেউয়ের সম্ভাবনার কথা বলা হয়। তবে পরে এসব দেশে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। ইন্দোনেশিয়া ‘রিং অফ ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে আচেহ প্রদেশে ৯.১ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিতে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।

Link copied!