মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই। ছবি : সংগৃহীত
শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এ পুরস্কার ঘোষণা করে। নরওয়ের রাজধানী ওসলোতে কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োরগেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস পুরস্কার ঘোষণা করে বলেন, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মতো গুরুতর অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন নাভি পিল্লাই।
নাভি পিল্লাই দীর্ঘ কর্মজীবনে সাহস ও সততার সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে কাজ করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত এক পরিবারে জন্ম তার। বর্ণবৈষম্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা পিল্লাই আইনজীবী হিসেবে বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন। বর্ণবাদবিরোধী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অন্যদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে তার কর্মজীবনের সূচনা হয়।
পরবর্তী সময়ে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্ট, রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। সম্প্রতি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় বিচারকের দায়িত্বে রয়েছেন পিল্লাই।
আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন নাভি পিল্লাই। বিভিন্ন ঐতিহাসিক মামলায় তিনি দেখিয়েছেন, আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে যুদ্ধ ও সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক আইনবিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতেও ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক থাকাকালে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন পিল্লাই। ওই মামলায় প্রথমবারের মতো শুধু প্রচারের মাধ্যমে গণহত্যায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগেও একজনের বিচার হয়। এই আইনি অগ্রগতিতেও অবদান ছিল তার।
নোবেল কমিটি বলেছে, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংঘাতের অহিংস সমাধানের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনের শাসন জরুরি। শান্তি প্রতিষ্ঠায় ন্যায়বিচারও গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্তমানে বিচারক ও আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানগুলো নানা চাপ ও আক্রমণের মুখে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাহস, দূরদৃষ্টি ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন নাভি পিল্লাই।
কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের জবাবদিহির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি সহিংসতা ও সংঘাতের শিকার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। ব্যক্তি ও রাষ্ট্র—সবারই আইনের শাসন মেনে চলার দায়িত্ব রয়েছে বলে বারবার তুলে ধরেছেন পিল্লাই।
নোবেল কমিটি জানিয়েছে, নাভি পিল্লাইয়ের কর্মজীবন আন্তর্জাতিক আইনকে সুরক্ষা দেওয়া ও এর বিকাশের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার প্রতি তার অঙ্গীকার আরও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়তে আগ্রহী মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা।