প্রকাশিত: মার্চ ১৪, ২০২৬, ১১:৫৮ এএম
সূর্যের তীব্র আলো শুধু আমাদের চোখ ধাঁধিয়ে দেয় না, ত্বকের জন্যও তৈরি করে নানা ধরনের সমস্যা। বিশেষ করে সানবার্ন বর্তমানে ত্বকের অন্যতম সাধারণ সমস্যাগুলোর একটি। সূর্যের আলট্রাভায়োলেট (ইউভি) রশ্মি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদে নানা ক্ষতি করতে পারে। এসব ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিদিন আমাদের ত্বক মূলত দুই ধরনের সূর্যরশ্মির মুখোমুখি হয়— ইউভি এ (UV-A) ও ইউভি বি (UV-B)।
ইউভি এ (UV-A):
এই রশ্মি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে কোলাজেন উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এর ফলে ত্বকে বয়সের ছাপ দ্রুত দেখা দেয়। ত্বক কুঁচকে যাওয়া, বলিরেখা, ফাইন লাইন ও রিংকেলসের মতো সমস্যাও তৈরি হতে পারে।
ইউভি বি (UV-B):
এই রশ্মি মূলত ত্বকের ওপরের স্তরে প্রভাব ফেলে এবং সানবার্নের প্রধান কারণ। পাশাপাশি ত্বকে কালো দাগ, ছোপ বা পিগমেন্টেশনের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
সানস্ক্রিনের ধরন
সাধারণত সানস্ক্রিন দুই ধরনের হয়ে থাকে— কেমিক্যাল সানস্ক্রিন ও ফিজিক্যাল (মিনারেল) সানস্ক্রিন।
কেমিক্যাল সানস্ক্রিন:
এ ধরনের সানস্ক্রিন ত্বকে লাগানোর পর ইউভি রশ্মি শোষণ করে তা ভেঙে দেয়। এতে সাধারণত অ্যাভোবেনজন, অক্সিবেনজন, অক্টিসালেট, অক্টোক্রাইলিন, হোমোসালেট ও অক্টিনোক্সেটের মতো উপাদান থাকে।
ফিজিক্যাল বা মিনারেল সানস্ক্রিন:
এই সানস্ক্রিন ত্বকের ওপর একটি সুরক্ষা স্তর তৈরি করে এবং সূর্যের রশ্মি প্রতিফলিত করে। এতে সাধারণত জিংক অক্সাইড ও টাইটেনিয়াম ডাইঅক্সাইড ব্যবহৃত হয়।
ত্বকের ধরন অনুযায়ী সানস্ক্রিন
ত্বকের ধরন অনুযায়ী সানস্ক্রিন নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে ত্বককে চার ভাগে ভাগ করা হয়— স্বাভাবিক, তৈলাক্ত, শুষ্ক ও সংবেদনশীল। তাই সানস্ক্রিন কেনার সময় এমন পণ্য বেছে নেওয়া উচিত যা ত্বকের জন্য উপযোগী এবং ত্বকে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা বজায় রাখে।
সানস্ক্রিন ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত— এমনকি মেঘলা দিনেও বা ঘরের ভেতরে থাকলেও।
বাইরে বের হওয়ার অন্তত ২০–৩০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন লাগানো ভালো।
প্রতি ২–৩ ঘণ্টা পরপর পুনরায় লাগানো প্রয়োজন।
মুখ ও ঘাড়ে প্রায় এক টেবিল চামচ পরিমাণ সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত।
শুধু মুখ নয়, কান, ঘাড়, হাত, পা ও শরীরের খোলা অংশেও সানস্ক্রিন লাগাতে হবে।
মেকআপ করার আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত।
গর্ভাবস্থায় কোন সানস্ক্রিন নিরাপদ?
গর্ভাবস্থায় মিনারেল বা ফিজিক্যাল সানস্ক্রিন ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ এতে থাকা জিংক অক্সাইড বা টাইটেনিয়াম ডাইঅক্সাইড ত্বকের ওপর একটি সুরক্ষা স্তর তৈরি করে এবং সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মিকে প্রতিফলিত করে।
সানস্ক্রিনে কি ত্বক কালো হয়ে যায়?
অনেকের ধারণা, সানস্ক্রিন ব্যবহারের কারণে ত্বক কালচে হয়ে যায়। তবে বাস্তবে বিষয়টি সব সময় সত্য নয়। অনেক সময় সানস্ক্রিনের কিছু উপাদান ত্বকের জন্য উপযুক্ত না হলে বা তাতে অ্যালার্জি থাকলে ত্বকে প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই সানস্ক্রিন কেনার আগে এর উপাদান তালিকা ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত এবং নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী পণ্য নির্বাচন করা প্রয়োজন। এছাড়া কিছু সানস্ক্রিনে ভিটামিন সি (বিশেষ করে এল-অ্যাসকরবিক অ্যাসিড) থাকতে পারে। এই উপাদান রোদের সংস্পর্শে অক্সিডাইজড হলে ত্বকে কালচে ভাব দেখা দিতে পারে। তাই এ ধরনের পণ্য ব্যবহারে সতর্ক থাকা জরুরি। ত্বককে দীর্ঘদিন সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখতে চাইলে নিয়মিত ও সঠিকভাবে সানস্ক্রিন ব্যবহার করার বিকল্প নেই।
আপনার মতামত লিখুন :