প্রকাশিত: মার্চ ১৮, ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
ঈদে যাত্রাপথে যানজটের কারণে দীর্ঘ সময় বাসে বা গাড়িতে বসে থাকার কারণে পা ভারী লাগা, গোড়ালি ফুলে যাওয়া বা জুতায় পা ঢোকানো কঠিন হয়ে পড়ে।
অনেকে ভাবেন— গরমে হাঁটাহাঁটি করেছি, রোজা রেখেছি, এমনই হবে।তবে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, ‘দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকলে পায়ে তরল জমে ফোলাভাব (এডিমা) হওয়া সাধারণ হলেও এটিকে সবসময় সাধারণ ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়।কখনও কখনও এটি শরীরের ভেতরের গুরুতর সমস্যার প্রথম সংকেত হতে পারে।’
কেন দীর্ঘ সময় বসে থাকলে পা ফুলে যায়?
ডা. নয়ন ব্যাখ্যা করেন, ‘যখন অনেকক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকা হয়— বিশেষ করে বাস, ট্রেন বা গাড়িতে- তখন পায়ের পেশি সংকুচিত হয় না। ফলে শিরার মাধ্যমে রক্ত ও তরল ওপরের দিকে ফিরে যেতে বাধা পায়।’
পায়ের নিচের অংশে তরল জমে যায়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলে ‘পেরিফেরাল এডিমা’।
তিনি আরও বলেন, ‘উষ্ণ আবহাওয়াতে এই সমস্যা আরও বাড়ে। কারণ গরমে রক্তনালী প্রসারিত হয় এবং তরল বাইরে বেরিয়ে আসার প্রবণতা বাড়ে। রোজা রাখার কারণে শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে এই ফোলা আরও বেশি হয়।’
কখন চিন্তার বিষয়?
সাধারণত কয়েক ঘণ্টা হাঁটাহাঁটি করলে বা পা উঁচু করে রাখলে ফোলা কমে যায়।ডা. নয়নের কথা অনুসারে- তবে যদি ফোলা কমতে না চায়, এক পায়ে বেশি হয়, ব্যথা থাকে, লালচে-ভাব দেখা যায় বা শ্বাসকষ্ট এর সঙ্গে যুক্ত হয়— তাহলে এটি সাধারণ ক্লান্তি নয়। এর পেছনে থাকতে পারে—
কিডনি বা বৃক্কের রোগ,হৃদরোগ বা ভেরিকোজ ভেইন (পায়ের শিরার ভাল্ভ দুর্বল হয়ে রক্ত জমে থাকে)। এছাড়া ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস ( রক্ত জমাট বাঁধলে পা ফুলে যায়, ব্যথা হয়), লিভার বা যকৃতের সমস্যা বা অ্যানিমিয়া: এসব কারণেও পা ফুলতে পারে।
ঈদের যাত্রায় এডিমা এড়াতে করণীয়
দীর্ঘ যাত্রা বা বসে থাকার সময় প্রতি ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পরপর উঠে হাঁটাহাঁটি করতে হবে। হাঁটাহাঁটি সম্ভব না হলে
পায়ের আঙুল নড়ান, গোড়ালি ঘোরান উপকারী। সম্ভব হলে পা একটু উঁচু করে রাখতে হবে।
পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত।
রোজা খোলার পর লেবুর শরবত, ডাবের পানি বা ওরস্যালাইন পান করতে হবে।
হালকা পোশাক পরা উচিত, যেন রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত না হয়। ঈদের ভ্রমণে সঙ্গে সামান্য ব্যায়ামের অভ্যাস করা উপকারী।
কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে
পা হঠাৎ খুব বেশি ফুলে গেলে, এক পায়ে ব্যথা বা লালচে-ভাব থাকলে, শ্বাসকষ্ট হলে বা ফোলা কয়েকদিন ধরে না কমলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ঈদের আনন্দের মাঝে শরীরের এই ছোট সংকেতগুলোকে অবহেলা করা যাবে না।
আপনার মতামত লিখুন :