অনেক শিশুরই আয়রনের ঘাটতি থাকে। আয়রন শিশুদের বৃদ্ধি, শক্তির মাত্রা এবং মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়তা করে।
ভারতীয় পুষ্টিবিদ ডা. অমিত পি ঘাওয়াড়ের মতে, শিশুদের বৃদ্ধির জন্য আয়রন এমন একটি পুষ্টি উপাদান যা বাবা-মায়েরা প্রায়ই উপেক্ষা করেন, কিন্তু এটি শিশুর সার্বিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। আয়রন হিমোগ্লোবিনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা ফুসফুস থেকে শরীরের বাকি অংশে অক্সিজেন বহন করে নিয়ে যায়। পর্যাপ্ত আয়রনের অভাবে শিশুরা ক্লান্ত, খিটখিটে বোধ করতে পারে। তাদের বৃদ্ধি কমে যেতে পারে। এমনকী তাদের স্কুলে মনোযোগ দিতেও সমস্যা হতে পারে।
৩ থেকে ১৪ বছর বয়সী অনেক শিশু, বিশেষ করে ছোট শিশু, যারা খেতে চায় না এবং কিশোর-কিশোরীরা আয়রনের অভাবে ভোগে। সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে আয়রনের অভাব নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ করা সম্ভব।
শিশুদের জন্য আয়রন কেন অপরিহার্য
বাড়ন্ত শিশুদের কোষ, পেশি ও মস্তিষ্ক গঠনের জন্য আয়রন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডা. ঘাওয়াড়ে বলেন,যখন শরীরে আয়রনের গ্রহণ কমে যায়, তখন শরীর তার সঞ্চিত ভান্ডার ব্যবহার করতে শুরু করে, যার ফলে রক্তাল্পতা দেখা দিতে পারে। তখন ক্লান্তি, ত্বকে ফ্যাকাশে ভাব, মনোযোগের অভাব এবং শারীরিক বৃদ্ধিতে দেরী দেখা দেয়।
যেসব খাবার আয়রনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে
১. মাছ আয়রনের একটি ভালো উৎস। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এটি অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।
২. সকালের নাশতায় বিভিন্ন ধরনের সিরিয়াল এবং ওটস যোগ করলে আয়রনের ঘাটতি পূরণ হবে। এসব খাবারে স্ট্রবেরি বা কমলার মতো ফল যোগ করলে ভিটামিন সি-এর কারণে শোষণ ক্ষমতা উন্নত হয়।
৩. শিম এবং ডাল জাতীয় খাবার স্যুপ বা স্টুতে যোগ করে খাওয়ালে শিশুরা উপকার পাবে।
৪. পালং শাক, ব্রকলির মতো পাতাযুক্ত শাকসবজি আয়রনের পাশাপাশি ফাইবার এবং ভিটামিনও সরবরাহ করে।
৫, ডিম আয়রন এবং প্রোটিন উভয়ই সরবরাহ করে। কিশমিশ এবং এপ্রিকটের মতো শুকনো ফল স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স হিসেবে শিশুদের খাবারে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
ডা. ঘাওয়াডে আরও বলেন, ‘আয়রন-সমৃদ্ধ খাবারের সাথে ভিটামিন সি-এর উৎস একত্রিত করলে শোষণ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হতে পারে’।
মনে রাখবেন, আয়রন শোষণ শুধুমাত্র শিশুরা কী খাচ্ছে তার উপরই নির্ভর করে না, বরং খাবারগুলো কীভাবে একত্রিত করা হচ্ছে তার উপরও নির্ভর করে। আয়রন-সমৃদ্ধ খাবারের সাথে কমলা, টমেটো বা ক্যাপসিকামের মতো ভিটামিন সি-এর উৎস একত্রিত করুন। আয়রন-সমৃদ্ধ খাবারের সাথে দুধ বা দইয়ের মতো উচ্চ-ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলুন, কারণ ক্যালসিয়াম এর শোষণকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।