প্রকাশিত: মার্চ ২৬, ২০২৬, ০৯:২০ এএম
`আমি মায়ের কোলে বসে ছিলাম। বাস হঠাৎ পদ্মা নদীর দিকে পড়ে যাচ্ছিল। নদীতে যখন পড়ে যায় মা আমাকে জানালা দিয়ে বের করে দেয়।’ কথাগুলো বলছিল পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাস থেকে মায়ের কারণে বেঁচে ফেরা আট বছর বয়সী আলিফ।
বুধবার (২৫ মার্চ) ঈদের ছুটি শেষে মায়ের সঙ্গে সে ঢাকায় ফিরছিল। আলিফ আরও বলে, ‘আমি সাঁতার কেটে ওপরে চলে আসি, কিন্তু আমার মাকে আর খুঁজে পাচ্ছি না।’
আলিফের নানি সাহেদা বেগম জানান, তার মেয়ে জ্যোৎস্না বেগম (৩৫) ঢাকার বাইপাইল এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করতো। তাদের বাড়ি রাজবাড়ী সদর উপজেলার মাছোঘাটা এলাকায়।
‘জ্যোৎস্নাকে আমি বাসে তুলে দিয়েছিলাম। বাড়ি গিয়ে তার সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলাম। তখন জ্যোৎস্না আমাকে বলে, “আম্মা বাস পদ্মায় পড়ে যাচ্ছে”। এরপর আর কোনও কথা শুনিনি। আমার মেয়েটা ফোনে কথা বলতে বলতে নদীর মধ্যে চলে গেলো’।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর ১১ যাত্রী সাঁতরে নিরাপদে উঠে আসতে সক্ষম হন।
এর আগে বিকাল পৌনে ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ‘সৌহার্দ্য’ পরিবহনের বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।
তবে ওই বাসে মোট কত জন ছিলেন তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
এদিকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটা পর্যন্ত ১৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :