ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেল ও রাতে তাদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গত ১২ দিনে হাসপাতালে হাম আক্রান্ত হয়ে মোট ৫ শিশুর মৃত্যু হলো।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ১১টার দিকে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার আয়নাল হকের ৬ মাস বয়সী ছেলে নুরুন্নবীর মৃত্যু হয়। এর আগে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ভর্তির পরপরই তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই সে মারা যায়।
এদিকে, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরগোবদিয়া গ্রামের আবদুর রহিমের ৭ মাস বয়সী ছেলে লিয়ন গত ২৭ মার্চ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
আবদুর রহিম জানান, ঈদের আগে নিউমোনিয়া নিয়ে তার ছেলে পাঁচ দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিল। পরে বাড়িতে নেওয়ার পর তার শরীরে হাম দেখা দিলে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা যায়, রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত হাম আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ৬৬ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। গতকাল থেকে আজ রোববার সকাল পর্যন্ত নতুন করে আরও ৩ জন শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে।
চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ২৪ মার্চ হাসপাতাল প্রশাসন তিনটি পৃথক মেডিকেল টিম গঠন করে। শিশু ওয়ার্ডে হাম আক্রান্তদের জন্য তিনটি আলাদা কক্ষ নির্ধারণ করা হয়, যেগুলো ‘হাম/মিসেলস কর্নার’ নামে পরিচিত। প্রতিটি কক্ষে ১০টি করে শয্যা রয়েছে এবং নির্ধারিত মেডিকেল টিমের তত্ত্বাবধানে শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে রোগীর চাপ বাড়ায় এসব কক্ষেও জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। ১৮ মার্চ থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাম আক্রান্ত রোগীদের তথ্য আলাদাভাবে সংরক্ষণ শুরু করে।
চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি, কথা বলা কিংবা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগের জটিলতা হিসেবে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখ ও মস্তিষ্কে প্রদাহসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করে। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি অনেক শিশুই নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম মেডিকেল টিমের ফোকাল পার্সন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা জানান, হাম আক্রান্ত হয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বেশিরভাগ শিশু জ্বর ও নিউমোনিয়াসহ জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে শিশু বিভাগের হাম কর্নারগুলো সরিয়ে আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।