ঢাকা রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
amaderkhobor24.com
কুমিল্লা-ব্রাহ্মণপাড়া

ঈদের পরও কমেনি ভাড়া, দুর্ভোগে যাত্রীরা

আমাদের খবর ২৪

প্রকাশিত: মার্চ ২৯, ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম

ঈদের পরও কমেনি ভাড়া, দুর্ভোগে যাত্রীরা

পবিত্র ঈদুল ফিতরের এক সপ্তাহ পার হলেও কুমিল্লা-ব্রাহ্মণপাড়া সড়কে সিএনজি ও অটোরিকশার ভাড়া এখনো স্বাভাবিক হয়নি। ঈদকে কেন্দ্র করে বাড়ানো অতিরিক্ত ভাড়া বহাল থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রাহ্মণপাড়া থেকে কুমিল্লা রুটে যেখানে স্বাভাবিক ভাড়া ছিল ৬০ টাকা, সেখানে বর্তমানে যাত্রীদের কাছ থেকে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। সন্ধ্যার পর ভাড়া আরো বেড়ে যায়।

নির্ধারিত ভাড়া দিতে চাইলে অনেক ক্ষেত্রে চালকরা যাত্রী তুলতে অনীহা দেখান বলে অভিযোগ রয়েছে। 
স্থানীয়দের মতে, সড়কের খারাপ অবস্থার অজুহাতে আগে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হলেও বর্তমানে সড়কের অনেকাংশ সংস্কার করা হয়েছে। তবু ভাড়া কমানো হয়নি, বরং ঈদের সময়ের বাড়তি ভাড়াকে স্থায়ী করার চেষ্টা চলছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ভাড়ার প্রতিবাদ করলে অনেক সময় চালকদের অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হতে হয়।

বিশেষ করে নারী ও পরিবার নিয়ে ভ্রমণকারীরা বেশি সমস্যায় পড়ছেন। দীর্ঘসময় অপেক্ষা করেও ন্যায্য ভাড়ায় যানবাহন না পেয়ে অনেকে বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কিছু অসাধু চালক সিন্ডিকেট গড়ে ভাড়া নৈরাজ্য চালাচ্ছেন। প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না।মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করা হলেও তা স্থায়ী প্রভাব ফেলছে না।

অন্যদিকে চালকরা বলছেন, ঈদের সময় যাত্রীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় গ্যাস স্টেশন না থাকা, দূর থেকে গ্যাস সংগ্রহ এবং যানবাহনের যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধির কারণেও আগের ভাড়ায় গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে ভোগান্তির কথা জানিয়ে এক যাত্রী বলেন, পরিবার নিয়ে বাড়ি এসে এখন বাড়তি ভাড়া দিয়ে ফিরতে হচ্ছে। এই সড়কে ভাড়ার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

স্থানীয়দের দাবি, নির্ধারিত ভাড়া তালিকা বাস্তবায়ন, নিয়মিত মনিটরিং এবং অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা জাহান জানান, উৎসবকেন্দ্রিক ভাড়া বৃদ্ধি একটি নিয়মিত সমস্যা। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

Link copied!