বাজারে আসার এক মাস পেরোতেই বেশ আলোচনায় ইনফিনিক্স নোট ৬০ সিরিজ। তবে এই আলোচনার কারণ কেবল ফোনের বিশেষ কোনো ফিচার নয়, বরং ব্যবহারকারীদের প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে এটি যেভাবে মিশে গেছে, সেটিই নজর কেড়েছে সবার। কাজের ফাঁকে ছোটখাটো বিরতি বা ছন্দপতন ছাড়াই সারাদিনের প্রতিটি মুহূর্তকে সহজ করে তোলাই যেন এই সিরিজের মূল সার্থকতা।
আজকালকার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধরনটা একদম আলাদা। ক্লাস করা বা বই পড়ার পাশাপাশি তাদের সারাক্ষণ ভিডিও দেখা, নোট নেওয়া আর বন্ধুদের সাথে গ্রুপ ডিসকাশনে মেতে থাকতে হয়। নোট ৬০ সিরিজের ১৪৪ হার্টজ অ্যামোলেড ডিসপ্লে আর দ্রুতগতির পারফরম্যান্স এই কাজগুলোকে করে তোলে আরও সহজ। এক অ্যাপ থেকে অন্য অ্যাপে যাওয়ার সময় কোনো ল্যাগ বা ধীরগতি না থাকায় মনোযোগেও ব্যাঘাত ঘটে না।
দীর্ঘ সময় ব্যবহারের নিশ্চয়তা দিতে এই ফোনে আছে ৬৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের বিশাল ব্যাটারি। সাথে দ্রুত চার্জিং সুবিধা থাকায় সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটুনিতেও ফোন বন্ধ হওয়ার ভয় থাকে না। ফলে চার্জার খুঁজে পাওয়ার দুশ্চিন্তা ছাড়াই ব্যবহারকারী তাঁর কাজে ডুবে থাকতে পারেন।
ফোনের অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দদায়ক করতে এতে যোগ করা হয়েছে ‘অ্যাক্টিভ-ম্যাট্রিক্স লাইটিং’ সিস্টেম। সাধারণ সব নোটিফিকেশনকে নান্দনিক আলোকসজ্জা আর ‘পিক্সেল পেটস’-এর মতো মজার সব অ্যানিমেশন দিয়ে সাজিয়ে নেওয়া যায়। এতে ফোনটি কেবল একটি যন্ত্র না হয়ে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিত্বের একটি অংশ হয়ে ওঠে।
তরুণ পেশাজীবীদের জন্য বড় স্বস্তির নাম এর টেকসই পারফরম্যান্স। একসাথে অনেকগুলো কাজ বা অ্যাপ সামলানোর জন্য এতে রয়েছে শক্তিশালী চিপসেট এবং বিশেষ কুলিং সিস্টেম। ফলে টানা ব্যবহারের পরেও ফোন গরম হয়ে কাজের গতি কমিয়ে দেয় না।
শখের কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য এই ফোনের ৫০ মেগাপিক্সেল এআই ক্যামেরা এক দারুণ সংযোজন। ঘরের ভেতর বা কম আলোতেও ঝকঝকে ছবি ও ভিডিও নিশ্চিত করতে এতে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ নাইট মোড। ফলে যেকোনো পরিবেশেই এখন মুহূর্তগুলো বন্দি করা অনেক সহজ।
সবশেষে ফোনটির মেটালিক ডিজাইন আর হাতের মুঠোয় মানিয়ে যাওয়ার মতো গড়ন একে দিয়েছে প্রিমিয়াম লুক। সব মিলিয়ে ইনফিনিক্স নোট ৬০ সিরিজ কেবল একটি স্মার্টফোন নয়, বরং বর্তমান সময়ের গতিশীল জীবনের এক বিশ্বস্ত সঙ্গী।